সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল পরিদর্শন শেষে নৌ-পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (উত্তর বিভাগ)-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আব্দুল ওয়ারীশ বলেছেন, ইজারাকৃত সীমানার বাইরে নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নৌ-পুলিশের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স গঠন করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, জেলা প্রশাসন কর্তৃক সীমানা নির্ধারণ করে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল ইজারা দেওয়া হলেও, নির্ধারিত এলাকার বাইরে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে নৌ-পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (উত্তর বিভাগ)-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আব্দুল ওয়ারীশ যাদুকাটা-১, যাদুকাটা-২সহ নদীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার টুকেরবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌ-পুলিশ সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম, টুকেরবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি দিলীপ কুমার দাস, ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মোঃ রাখাব উদ্দিন, সুনামগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও মোহনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কুলেন্দু শেখর দাস, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সোনালী খবরের প্রতিনিধি মোঃ ফরিদ মিয়া এবং অন্যান্যরা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আব্দুল ওয়ারীশ বলেন, সরকার কর্তৃক যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং উভয় মহালের সীমানাও নির্ধারণ করা রয়েছে। কিন্তু একটি মহল নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনে তিনি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী মানুষের বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ইজারাদারদের অবশ্যই নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই বালু উত্তোলন করতে হবে, এর বাইরে কোনোভাবেই বালু কাটার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নৌ-পুলিশ টাস্কফোর্স গঠন করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পর্যটন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, যাদুকাটা নদী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক এখানকার নদী, হাওর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তাই যাদুকাটার পরিবেশ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬