
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জনজীবনের পাশাপাশি গবাদিপশু পালনেও দেখা দিয়েছে সংকট। বোরো মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক কৃষক ধানের খড় ঠিকমতো শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে না পারায় বর্তমানে গোখাদ্য সংকটে পড়েছেন। এর সঙ্গে বৃষ্টির কারণে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হওয়ায় গবাদিপশুর বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন খামারিরা।
উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর বোরো ধান কাটার পর খড় শুকিয়ে সারা বছরের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু এ বছর বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক খড় শুকিয়ে ঘরে তুলতে পারেননি। ফলে বর্তমানে গরুর খাদ্য জোগাড় করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। খামারিরা জানান, টানা বৃষ্টিতে মাঠের ঘাস পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া সবুজ ঘাস সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে বেশি দামে খড় ও অন্যান্য গোখাদ্য কিনতে হচ্ছে। এতে গরু পালনের খরচ বেড়ে গেছে। একাধিক খামারি বলেন, বোরো মৌসুমে খড় শুকিয়ে রাখতে পারিনি। এখন গরুর খাবারের জন্য বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আবার গরু বিক্রি করতেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আমরা দুই দিক থেকেই সমস্যায় পড়েছি। এদিকে বৃষ্টির কারণে গবাদিপশুর মধ্যে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (Lumpy Skin Disease-LSD) রোগের ঝুঁকি নিয়েও খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত গরুর শরীরে গুটি, জ্বর ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হোসেনপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোজাহিদুল কবির শিহাব বলেন, বৃষ্টির সময় গবাদিপশুর পরিচর্যায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। গোয়ালঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পশুকে শুকনো স্থানে রাখা এবং কোনো রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষক ও খামারিদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে গোখাদ্য সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তার ব্যবস্থা করা হলে তারা উপকৃত হবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬