
আলী কদর পলাশ
প্রিয় পাঠক,
লা মাসিয়ার ড্রেসিংরুমে নতুন ছেলেটি কারও সঙ্গে তেমন কথা বলত না।
কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে শুধু মাথা নাড়ত। দুপুরের খাবারের সময় এক কোণে বসে থাকত। অনুশীলন শেষে অন্যরা যখন গল্পে মেতে উঠত, সে তখন চুপচাপ নিজের বুটজোড়া গুছিয়ে রাখত।
কয়েক দিনের মধ্যেই গুজব ছড়িয়ে পড়ল।
"ছেলেটি বোবা।"
নতুন দেশে এসেছে, ভাষা জানে না, লাজুক। এসব ভাবার ধৈর্য কারও ছিল না। সবাই তার নীরবতাকে অক্ষমতা ভেবে নিল।
কিন্তু প্রতিদিন বিকেলে মাঠে অন্য এক দৃশ্য দেখা যেত।
বলটা যখন তার পায়ে যেত, তখন যেন হঠাৎ সবকিছু বদলে যেত। সতীর্থরা দৌড়াত তার ইশারায়। কোচরা তাকিয়ে থাকতেন বিস্ময়ে। একটি পাস, একটি স্পর্শ, একটি ড্রিবল। কোনো শব্দ ছাড়াই সে যেন সবাইকে বলে দিচ্ছিল কী করতে হবে।
মাঠে তার ভাষা ছিল ফুটবল।
তারপরও অনুশীলন শেষ হলে সে আবার আগের মতোই নীরব হয়ে যেত।
অনেক পরে জানা গেল, ছেলেটি বোবা ছিল না।
সে ছিল ভীষণ লাজুক। নতুন দেশ, নতুন ভাষা, নতুন বন্ধু। সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে তার সময় লাগছিল। রাত হলে মায়ের কথা মনে পড়ত। অনেক রাত বালিশ ভিজেছে নীরব কান্নায়। সেই কান্না কেউ দেখেনি। সবাই শুধু তার নীরবতাই দেখেছিল।
সময় কেটে গেল।
নীরব ছেলেটির পায়ের ভাষা একদিন পুরো পৃথিবীর ভাষা হয়ে উঠল। কোটি কোটি মানুষ তার একটি স্পর্শের অপেক্ষায় টেলিভিশনের সামনে বসে থাকে। একটি বল তার পায়ে এলে পুরো স্টেডিয়াম নিঃশ্বাস আটকে রাখে।
সে নীরবতাকেই নিজের ভাষা বানিয়েছিল।
সে কথা বলেছে ফুটবলের সঙ্গে।
আজ ফুটবলও তার কথাই শোনে।
একদিন যে ছেলেটিকে সবাই বোবা ভেবেছিল, পৃথিবী আজ তাকে চেনে লিওনেল মেসি নামে।
[বিদেশি পত্র পত্রিকা অবলম্বনে]
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬