
আলী কদর পলাশ
প্রিয় পাঠক,
হাসপাতালের ছোট্ট একটি কক্ষ। সাদা দেয়াল, ওষুধের গন্ধ, চারদিকে চিকিৎসার নানা যন্ত্রপাতি। তবু সেদিন সেখানে ছিল এক অন্যরকম উৎসব। কেউ হুইলচেয়ারে বসে, কেউ হাসপাতালের বিছানায়। কিন্তু সবার চোখে একই রকম উচ্ছ্বাস।
কারণ, তাদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এমন একজন, যাকে কোটি কোটি মানুষ চেনে। অথচ সেই মুহূর্তে তিনি কোনো বিশ্বতারকা নন। তিনি যেন ছিলেন শুধু একজন বড় ভাই, একজন বন্ধু।
তিনি এক শিশুর মাথায় আলতো করে হাত রাখলেন। আরেকজনের সঙ্গে হেসে কথা বললেন। কারও হাতে তুলে দিলেন নিজের জার্সি। কেউ ছবি তুলতে চাইল, কেউ শুধু হাতটা ছুঁয়ে দেখতে চাইল।
শিশুটির চোখে তখন এমন এক আলো, যা কোনো স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের চেয়েও উজ্জ্বল।
সেদিন হয়তো কোনো ম্যাচ ছিল না। ছিল না হাজার হাজার দর্শকের গর্জন। তবু সেই ছোট্ট কক্ষেই যেন জন্ম নিচ্ছিল আরেকটি বিজয়ের গল্প।
ফুটবল মাঠে গোল করে অসংখ্য ম্যাচ জেতা যায়। কিন্তু মানুষের হৃদয় জিততে লাগে অন্যরকম সাহস।
মাত্র উনিশ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে তিনি পৃথিবীর অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হন। সামনে খুলে যায় অর্থ, খ্যাতি আর বিলাসিতার অসংখ্য দরজা। কিন্তু সেই সাফল্যের একটি বড় অংশ তিনি নিজের জন্য জমিয়ে রাখেননি।
ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে খেলে পাওয়া পারিশ্রমিকের বড় অংশ তিনি নিয়মিত দান করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা Premiers de Cordée-কে। শুধু অর্থ দিয়েই থেমে থাকেননি। সুযোগ পেলেই ছুটে গেছেন শিশুদের কাছে। খেলেছেন, গল্প করেছেন, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছেন।
হয়তো সেই কারণেই সেদিন জিতেছিল শুধু একটি দল নয়, জিতেছিল কয়েকটি শিশুর হাসিও।
বিশ্বকাপের ট্রফি একদিন কাচের আলমারিতে উঠে যায়। পদক ঝুলে থাকে দেয়ালে। গোলের রেকর্ডও একদিন ভেঙে যায়। কিন্তু একটি অসুস্থ শিশুর মুখে ফিরিয়ে দেওয়া হাসি কোনো জাদুঘরে বন্দি থাকে না। সেটি বেঁচে থাকে মানুষের স্মৃতিতে।
কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে হয়তো আরও গোল আসবে, আরও শিরোপা আসবে। কিন্তু তার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়টি হয়তো কোনো স্টেডিয়ামে লেখা হয়নি।
সেটি লেখা হয়েছিল একটি হাসপাতালের ছোট্ট কক্ষে।
[বিদেশি পত্র পত্রিকা অবলম্বনে]
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬