
কাশিয়ানী প্রতিনিধি
বর্ষা মৌসুম এলেই গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বিভিন্ন বিল ও জলাশয় সাদা শাপলায় ভরে ওঠে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই শাপলা অনেক নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের কর্মহীন মানুষ, কৃষক ও দিনমজুরেরা ভোরবেলা নৌকা নিয়ে বিলে নেমে শাপলা তোলেন। সাধারণত প্রতি আঁটি বা প্রতিটি শাপলা ৮ থেকে ১০ টাকায় ফড়িয়া ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। দাম কম হওয়ায় নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে সব শ্রেণীর মানুষের কাছেই এটি একটি সুস্বাদু সবজি।
ভোরের আলো ফোটার আগেই নারী-পুরুষ ও কিশোররা নৌকা নিয়ে বিলে যান। শাপলা সংগ্রহ করে মুঠা বেঁধে স্থানীয় বাজার ও পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পরে এসব শাপলা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়।
রাজপাট ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শাপলা বিক্রেতা সুশীল কুমার বলেন, “বর্ষা মৌসুমে শাপলার চাহিদা অনেক বেশি থাকে। আমরা বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে প্রতি মুঠা ৮ থেকে ১০ টাকায় পাইকারদের কাছে বিক্রি করি। প্রতিদিনের বিক্রির আয় দিয়ে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে পারি। মৌসুমি হলেও এই আয় আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”
স্থানীয়রা জানান, শাপলা শুধু একটি জনপ্রিয় দেশীয় সবজিই নয়, বরং বর্ষাকালে এটি অনেক পরিবারের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। তাই বিল ও জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং শাপলার প্রাকৃতিক আবাস রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শাপলা মূলত বর্ষা মৌসুমে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বিল ও জলাশয় থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং কোনো পুঁজি ছাড়াই স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক প্রান্তিক মানুষ। কাশিয়ানী ও গোপালগঞ্জের সিংগা, রাহুথড়, হাতিয়াড়া বিলসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বিলে শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রির প্রবণতা বেশি, যেখানে মৌসুমে কোটি টাকারও বেশি শাপলা বেচাকেনা হয়ে থাকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬