
আলী কদর পলাশ
প্রিয় পাঠক,
ড্রেসিংরুমের ভেতর তখন অদ্ভুত এক নীরবতা। বাইরে হাজার হাজার মানুষের গর্জন। ভেতরে কেউ বুট খুলছে, কেউ জার্সির ঘাম মুছছে, কেউ আবার চুপচাপ বসে আছে নিজের ভেতর।
এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক ফুটবলার। তাঁর এক হাতে শক্ত সাপোর্ট। অন্য হাতটি এগিয়ে আছে সামনে রাখা সোনালি ট্রফির দিকে।
তিনি ট্রফিটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন অপলক চোখে। যেন সেটি শুধু ধাতুর তৈরি কোনো কাপ নয়; যেন সেটি তাঁর অপেক্ষা, তাঁর ব্যথা, তাঁর অপূর্ণ মাঠে নামা, তাঁর দলের প্রতি নীরব ভালোবাসা।
কয়েক মুহূর্ত পরই পৃথিবী দেখবে এক বিরল দৃশ্য। বিশ্বকাপ উঠবে, কিন্তু দুই হাতে নয়। উঠবে এক হাতেই।
সেই রাতটি ১৯৯৪ সালের ১৭ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের পাসাডেনার রোজ বোল স্টেডিয়াম।
কিন্তু এই গল্পের শুরু আসলে ফাইনালের রাতে নয়। শুরু বিশ্বকাপের ঠিক কয়েক দিন আগে।
ব্রাজিলের তৎকালীন অধিনায়ক ও রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা রিকার্দো গোমেজ গুরুতর হাঁটুর চোটে ছিটকে যান বিশ্বকাপ দল থেকে। তাঁর অনুপস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে স্কোয়াডে ডাক পান মাত্র ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর—রোনালদো। আর দলের নতুন অধিনায়কের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় দুঙ্গার কাঁধে।
এরপর ইতিহাস। দুঙ্গার নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে থাকে ব্রাজিল। সামনে রোমারিও ও বেবেতোর দুর্দান্ত জুটি, মাঝমাঠে মাউরো সিলভা ও দুঙ্গার অদম্য লড়াই, গোলপোস্টে ক্লাউদিও টাফারেলের নির্ভরতা। ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলে সেলেসাও।
ফাইনালে ইতালিকে টাইব্রেকারে হারানোর পর অধিনায়ক দুঙ্গা ট্রফি গ্রহণ করেন। কিন্তু উদযাপনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি তৈরি করেন তিনিই। সতীর্থদের সঙ্গে তিনি সামনে ডেকে আনেন বাদ পড়া অধিনায়ক রিকার্দো গোমেজকে।
চোটের কারণে মাঠে নেমে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ তিনি ভাগ করে নিতে পারেননি। এক হাতে ছিল শক্ত সাপোর্ট। তাই আহত হাতটি ব্যবহার করতে না পেরে অন্য হাতেই বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচু করে ধরেন তিনি।
সেই দৃশ্য ছিল শুধু একটি ট্রফি তোলার মুহূর্ত নয়। এটি ছিল অধিনায়ক দুঙ্গা ও পুরো ব্রাজিল দলের পক্ষ থেকে তাদের সাবেক অধিনায়ককে বলা—"এই জয় তোমারও।"
ফুটবল ইতিহাসে অসংখ্য শিরোপার ছবি আছে। কিন্তু এক হাত দিয়ে বিশ্বকাপ তুলে ধরা সেই মুহূর্ত আজও মনে করিয়ে দেয়—একটি দল শুধু মাঠে নয়, হৃদয়েও চ্যাম্পিয়ন হতে পারে।
[বিদেশি পত্র পত্রিকা অবলম্বনে]
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬