পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একটি কবরস্থান থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক নারীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারস্থল থেকে একটি বিষের বোতল পাওয়া গেলেও চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত মেলেনি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর পৌনে ২টার দিকে প্রায় ২৮ বছর বয়সী ওই নারীকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৪টায়ও তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ল্যাংগার দোকানসংলগ্ন একটি কবরস্থানে অজ্ঞাত ওই নারীকে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, “নারীর পাশ থেকে একটি বিষের বোতল পাওয়া যায়। তাই প্রথমে সবাই ধারণা করেছিল তিনি বিষপান করেছেন। পরে আমরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমকে বিষয়টি জানিয়ে চলে আসি।”
তবে স্থানীয়দের এ ধারণার সঙ্গে চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের মিল পাওয়া যায়নি।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব বলেন, “অজ্ঞান অবস্থায় নারীকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় বিষক্রিয়া বা বিষপানের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তার মুখ দিয়ে ফেনা ও মানববর্জ্য বের হয়েছে। পাশে বিষের বোতল পাওয়া গেলেও শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ না থাকায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন।”
পটিয়া পৌরসভা গাউছিয়া কমিটি মানবিক টিমের সদস্যসচিব মাওলানা মোহাম্মদ ইছহাক বলেন, “পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিচয়হীন ওই নারীর চিকিৎসার দায়িত্ব মানবিকভাবে গ্রহণ করি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান। ময়নাতদন্ত শেষে গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে তার দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।”
পটিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সমীর ভট্টাচার্য বলেন, “এ মুহূর্তে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬