ডিজিটাল স্বাক্ষরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, ‘বড় বিজয়’ বলছে হিজবুল্লাহ

Date:

spot_img

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) এবার ডিজিটাল স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian। দুই দেশের শীর্ষ নেতার স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মার্কিন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক সংঘাত নিরসন এবং হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাত বন্ধে সহযোগিতা করবে। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরের পর স্মারকটিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf। এর আগে স্মারকটির প্রাথমিক ডিজিটাল অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে চুক্তি কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালী যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না বলে স্পষ্ট করেছেন গালিবাফ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও নতুন নীতিমালার আওতায় তেহরান ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালীর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে প্রণালীটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হলেও নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামো কার্যকর থাকবে।

এদিকে, সমঝোতা স্মারকে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির সফলতা অনেকাংশে মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।

অন্যদিকে, এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah। সংগঠনটির মহাসচিব Naim Qassem সমঝোতা স্মারকে ডিজিটাল স্বাক্ষরের ঘটনাকে ‘বড় বিজয়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, এই উদ্যোগ অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও সুগম করতে পারে।

চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের দিকে এখন নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

বাচসাসের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট ২০ নভেম্বর

এম.আর.জে শান্ত: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের...

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...