
খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় এক গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে এক পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকালে নগরীর সোলার পার্ক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিলন নামের এক তরুণী গৃহকর্মীকে সামান্য একটি পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে মারধর করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, রান্নার সময় কুমড়ার তরকারি নষ্ট বা পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মিলন দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারের সঙ্গে বসবাস ও কাজ করে আসছিলেন। তার বাবা-মা নেই এবং তিনি নরসিংদীর বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাড়ির বারান্দায় ওই তরুণীকে কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছিল এবং তাকে মারধর করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে একজন সংবাদকর্মী ও কয়েকজন নারী অধিকারকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে প্রথমে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগের পর তারা বাসার ভেতরে প্রবেশ করে গৃহকর্মীকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের সময় মিলনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে উপস্থিত ব্যক্তিরা দাবি করেন। এছাড়া তার শরীরে গরম খুন্তি বা রান্নার সরঞ্জাম দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও তার শরীরে নির্যাতনের বিভিন্ন চিহ্ন দেখা গিয়েছিল।
অভিযোগের তীর সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত এসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রের বিরুদ্ধে। তারা দুজনই পুলিশ বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে।





