আশুলিয়ার রূপায়ণ সিটিতে সন্ত্রাসের রাজত্ব: তাইজুল-মিনারা গ্রেফতার, পলাতক ইমনের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসী

Date:

spot_img

শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:

ঢাকার আশুলিয়ার ছয়তলা রূপায়ণ সিটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, মাদক ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে চিহ্নিত তাইজুল ও মিনারাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে তাদের সহযোগী কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইমন পালিয়ে যাওয়ায় এলাকায় এখনো চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপায়ণ সিটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাইজুল, মিনারা ও ইমন একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, ফিটিং চক্রসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এই চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এমনকি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায়ও তাদের নাম উঠে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না। প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পরও থেমে থাকেনি এই চক্রের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাইজুল, মিনারা ও ইমন মিলে হত্যার উদ্দেশ্যে অ্যাম্বুলেন্স চালক সুজনের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এতে তার হাত ও মাথায় মারাত্মক জখম হয়।

এ সময় সুজনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন আরেক ব্যক্তি। কিন্তু তাকেও রেহাই দেয়নি হামলাকারীরা। তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাইজুল ও মিনারাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গ্রেফতার করে। তবে হামলার মূল অভিযুক্ত ইমন সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাতক ইমন এখনো ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে, যাতে তারা মিডিয়া বা প্রশাসনের সামনে কোনো তথ্য প্রকাশ না করে।

এলাকাবাসীর দাবি, তাইজুল ও মিনারাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার হতে পারে এবং একটি বড় অপরাধ চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসবে।

এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ দ্রুত পলাতক সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, কোনোভাবে যদি এসব অভিযুক্ত জামিনে বেরিয়ে আসে, তাহলে এলাকায় আবারও সন্ত্রাস ও মাদকের তাণ্ডব শুরু হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে রূপায়ণ সিটি এলাকায় স্থায়ীভাবে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

বাচসাসের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট ২০ নভেম্বর

এম.আর.জে শান্ত: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের...

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...