নিজের পরিচয়ে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াতে চান সপ্তর্ষি ক্রুজ

0
21
‎
‎ ‎

শৈশবে শরীরের গঠন নিয়ে অন্যের কটূক্তি, আত্মবিশ্বাসের সংকট আর নিজেকে নিয়ে নানা সংশয়—এসব বাধা পেরিয়েই নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলেছেন সপ্তর্ষি ক্রুজ।

একসময় অন্যের নেতিবাচক মন্তব্যে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেললেও এখন সেই অভিজ্ঞতাকেই শক্তিতে পরিণত করেছেন তিনি। আইন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণী।
নাটোরে জন্ম নেওয়া সপ্তষির শিক্ষাজীবন কেটেছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তিনি বাড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট, সেন্ট যোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং হলি ক্রস কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আইন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।


সপ্তর্ষি ক্রুজ জীবনের পথচলা অবশ্য সব সময় মসৃণ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে শরীরের গঠন নিয়ে নানা ধরনের কটূক্তির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। এসব অভিজ্ঞতা একসময় তাঁর আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিজেকে অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে পড়া মনে হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন, অন্যের নেতিবাচক মন্তব্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা কিংবা ভবিষ্যতের সম্ভাবনা বিচার করা উচিত নয়।
সেই উপলব্ধিই তাঁকে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। নিজের কষ্টকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে শক্তিতে রূপান্তর করার চেষ্টা করেন তিনি। ভয়, অনিশ্চয়তা ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি কাটিয়ে ধীরে ধীরে নিজের স্বপ্নের প্রতি মনোযোগী হয়ে ওঠেন। সেই পথচলায় উল্লেখযোগ্য অর্জন আসে ২০২৫ সালে, যখন তিনি ‘মিস পিস বাংলাদেশ’-এ তৃতীয় রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
এই সাফল্য তাঁর সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে ‘মিস অ্যান্ড মিস এলিগ্যান্স বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে ‘মিস ফায়ার বাংলাদেশ ২০২৬’-এর মঞ্চে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ পান তিনি।
সপ্তর্ষি ক্রুজের কাছে এই অর্জনগুলো কেবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কিংবা স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয় নয়; বরং নিজের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাসেরও প্রতিফলন।
সপ্তর্ষি ক্রুজ মনে করেন, একজন নারীর পরিচয় শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর সাহস, মেধা, ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই একজন নারীকে স্বতন্ত্র করে তোলে। তাই নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি অন্যদেরও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার বার্তা দিতে চান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সপ্তষির লক্ষ্য দ্বিমুখী। একদিকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চান, অন্যদিকে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার জগতেও নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান। তাঁর স্বপ্ন, একদিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সপ্তষি বিশ্বাস করেন, অতীতের প্রতিকূলতা কিংবা অন্যের নেতিবাচক মন্তব্য কারও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না। নিজের ওপর বিশ্বাস থাকলে একসময় দুর্বলতাও শক্তিতে পরিণত হতে পারে। তাঁর প্রত্যাশা, যাঁরা অন্যের কথায় নিজেদের মূল্য নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন কিংবা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে স্বপ্ন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, তাঁর গল্প তাঁদের নতুন করে সাহস জোগাবে।
সপ্তর্ষি ক্রুজ কাছে স্বপ্নের অর্থ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন নয়। নিজের যোগ্যতায় পরিচিতি গড়ে তুলে একদিন বাংলাদেশের পতাকা হাতে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াতে চান তিনি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই এগিয়ে চলেছেন এই তরুণী। তাঁর বিশ্বাস, নিজের প্রতি আস্থা, অধ্যবসায় ও সাহস থাকলে প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here