
এম.আর.জে শান্ত
নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডের পর্দায় পরিচিত মুখ ছিলেন লিমা, সোনিয়া ও অঞ্জুমান আরা শিল্পী। জনপ্রিয় নায়ক ও নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে অল্প সময়েই দর্শকের নজর কেড়েছিলেন তাঁরা। একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে সম্ভাবনাময় নায়িকা হিসেবে নিজেদের অবস্থানও তৈরি করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে তাঁদের জীবনের গতিপথ। চলচ্চিত্র থেকে সরে গিয়ে কেউ পেশা বদলেছেন, কেউ পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। একসময় আলোচিত এই তিন অভিনেত্রী এখন কোথায়, কী করছেন?
লিমা:

নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই নায়িকা হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন লিমা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে
পা রাখা এই অভিনেত্রী ‘লড়াই’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচিতি পান। পরে ‘প্রেমগীত’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করে আলোচনায় আসেন। সালমান শাহ, ওমর সানী, বাপ্পারাজ ও রুবেলের মতো নায়কদের বিপরীতে দেখা গেছে তাঁকে। প্রায় আট বছরের অভিনয়জীবনে ‘প্রেমযুদ্ধ’, ‘কন্যাদান’, ‘বাংলার কমান্ডো’ ও ‘নীল সাগরের তীরে’র মতো সিনেমায় কাজ করেন তিনি। তবে নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে চলচ্চিত্রে তাঁর উপস্থিতি কমে আসে। অভিনয় ছেড়ে ব্যবসায় মনোযোগী হন লিমা। নিউমার্কেট ও মোহাম্মদপুর এলাকায় বিউটি পারলারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর খবরও প্রকাশিত হয়।
সোনিয়া:

একই সময়ে চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন সোনিয়া। ‘মাস্তান রাজা’ ও ‘প্রেমশক্তি’র মতো সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পান তিনি। বাপ্পারাজ ও সালমান শাহের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে কাজ করেছেন সোনিয়া। তাঁর অভিনীত সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘অজান্তে’ ও ‘বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ’। পাঁচ দশকের বেশি সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে একসময় নিয়মিত ছিলেন চলচ্চিত্রে। তবে দুই হাজারের দশকের মাঝামাঝি থেকে বড় পর্দায় তাঁর উপস্থিতি কমতে থাকে। পরে স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে বসবাস শুরু করেন তিনি। সেই সঙ্গে চলচ্চিত্রের ব্যস্ততা থেকেও দূরে সরে যান।
আঞ্জুমান আরা শিল্পী:

অঞ্জুমান আরা শিল্পীর চলচ্চিত্রযাত্রাও ছিল সম্ভাবনাময়। ‘বাংলার কমান্ডো’ তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা। ১৯৯৬ সালে সালমান শাহের বিপরীতে ‘প্রিয়জন’ সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে প্রায় ৩৬টি সিনেমায় কাজ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘বাবা কেন চাকর’, ‘লম্পট’, ‘ক্ষমা নেই’ ও ‘মুক্তি চাই’। তবে দুই হাজার সালের দিকে চলচ্চিত্রে তাঁর ব্যস্ততা কমে আসে। পরে টেলিভিশন নাটকেও তাঁকে মাঝেমধ্যে দেখা গেছে। এক সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্রজগতের পরিবেশ এবং সংসার ও সন্তানদের প্রতি দায়িত্বের বিষয়টি অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন শিল্পী।
নব্বইয়ের দশকে সম্ভাবনা জাগিয়েও লিমা, সোনিয়া ও শিল্পী শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রে নিয়মিত থাকতে পারেননি। সময়ের ব্যবধানে তাঁদের জীবনে এসেছে ভিন্ন পরিবর্তন। একসময় বড় পর্দায় যাঁদের উপস্থিতি ছিল দর্শকের আগ্রহের বিষয়, তাঁরা এখন চলচ্চিত্রের আলোঝলমলে জগৎ থেকে অনেকটাই দূরে।





