
আগামী সপ্তাহে আরও বড় আন্দোলনের ঘোষণা, সহিংসতা নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ
শিক্ষার উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে কয়েক দিনের টানা বিক্ষোভের পর শ্রেণিকক্ষে ফিরতে শুরু করেছে ফ্রান্সের শিক্ষার্থীরা। তবে আগামী সপ্তাহে আরও বড় পরিসরে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংস সংঘর্ষ ও পুলিশের শক্তি প্রয়োগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দেশটির বিভিন্ন হাইস্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে হাজারো শিক্ষার্থী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। আন্দোলনকারীদের অধিকাংশের বয়স ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে মানিয়ে নিতে অক্ষম ভবনগুলোর দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা।
ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা পরিস্থিতি উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র শাবিয়া মান্টু বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও হাইস্কুল অবরোধ ঘিরে সহিংসতার ঘটনাগুলো তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু আন্দোলনকারী রাস্তায় আগুন জ্বালানো ও বাসস্টপ ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।
এসব ঘটনার জবাবে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ ও ব্লাস্ট বল ব্যবহার করে। এতে মানবাধিকার সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ তোলে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ নিজেদের সদস্যদের বিরুদ্ধে ১৮টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।
গত সোমবার পুলিশের একটি স্টান গ্রেনেড বিস্ফোরণে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর হাত হারায়। এ ঘটনার পর সরকার অস্ত্রটির ব্যবহার স্থগিত করে। এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী প্যারিসের বাস্তিল স্কোয়ারে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।





