
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকালে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ, আটটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারসহ মোট ২০টি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পূর্ণ কর্তৃত্ব ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখার অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বিবৃতির শুরুতে ইরানের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আইআরজিসি। বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, প্রায় ১৯০ দিন ধরে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি ধারাবাহিক সমর্থন দিয়ে জনগণ সহনশীলতা ও সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নৌবাহিনী পূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। তাদের ভাষ্য, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের সরাসরি জবাব হিসেবে সর্বশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তেহরানের অভিযোগ, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মার্কিন বাহিনী পারস্য উপসাগরে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাব হিসেবে আইআরজিসির নৌবাহিনী ওই এলাকায় দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালায়। এসব হামলায় লক্ষ্যবস্তু জাহাজগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির ভেতরে ইরানের ঘোষিত নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক অঞ্চলের মধ্য দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করায় আরও ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
আইআরজিসির দাবি, নিয়ম অমান্যকারী এসব বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন বাহিনীর প্ররোচনা ও সমর্থনে ওই নিষিদ্ধ অঞ্চল অতিক্রমের চেষ্টা করছিল।
বিবৃতির শেষাংশে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে তাদের সার্বক্ষণিক তদারকি ও সক্রিয় সামরিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।





