কাশিয়ানীতে কেজিপ্রতি লাভের লোভে নির্বিচারে ডাল কাটা, ঝুঁকিতে পরিবেশ

Date:

spot_img

শেখ শোভন আহমেদ, কাশিয়ানী প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রেইনট্রি ও শিরিষ গাছের তথাকথিত ‘ভাইরাস’ সংগ্রহের নামে নির্বিচারে গাছের ডাল কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বড় বড় গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ধীরে ধীরে অনেক গাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কতিপয় চোরাকারবারি বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিরিষ ও রেইনট্রি গাছের রোগাক্রান্ত বা আক্রান্ত বলে ধারণা করা ডাল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলার মহাসড়কের বা আঞ্চলিক রাস্তার পাশের গাছগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি ডাল কাটা হয়।বেশি লাভের আশায় তারা আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করতে গিয়ে ডালের শেষ প্রান্তের সামান্য অংশের পরিবর্তে বড় বড় ডাল কেটে ফেলছেন। ফলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পুরো গাছই শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ রক্ষা ও ছায়া প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এসব গাছ এভাবে নির্বিচারে ডাল কাটার কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।তবে, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কাশিয়ানী উপজেলা প্রশাসন কি কারণে এবিষয় নিরব রয়েছেন? এবং কেন তারা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায় উপজেলার সাতাশিয়া বাজারে। সেখানে কিছু মানুষ গাছের ডাল কেটে তা সংগ্রহ করছিল।এসময় সংগ্ৰহকারী দলের সদস্য সাব্বির বলেন,আমরা এই ভাইরাসগুলো উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের ফলসির মুহাম্মদ এর কাছে বিক্রি করি। তারা কেজি প্রতি তিনশো টাকা দেয়। আমরা এই ডাল কাটি অনেক দিন ধরেই কোন সময় প্রশাসন আমাদের বাঁধা দেয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাকে সাধারণ মানুষ ‘ভাইরাস’ বলে মনে করছেন, সেটি আসলে ভাইরাস নয়; এটি লাক্ষা (Lac insect) নামে পরিচিত এক ধরনের ক্ষুদ্র পোকা। এ পোকার দেহ থেকে নির্গত আঠালো রস গাছের ডালের গায়ে জমে শক্ত আবরণ তৈরি করে। সাধারণত এ পোকার আক্রমণে গাছ সরাসরি মারা যায় না। তবে আক্রান্ত ডাল সংগ্রহের নামে বড় বড় ডাল কেটে ফেললে গাছ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একসময় মারা যেতে পারে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, লাক্ষা পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ইমিডাক্লোপ্রিড (Imidacloprid) গ্রুপের উপযুক্ত কীটনাশক ব্যবহার করলে এ পোকা দমন করা সম্ভব। তাই গাছের বড় ডাল কেটে ফেলার পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পোকার দমন এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এ ধরনের নির্বিচার ডাল কাটা বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা না হলে উপজেলার পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেইনট্রি ও শিরিষ গাছের সংখ্যা দ্রুত কমে যেতে পারে।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

কলাপাড়ায় সৈকতে ভেসে এলো ৬ ফুট মৃত বোতলনোজ ডলফিন

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পূর্ব পাশে চর গঙ্গামতি...

চুয়াডাঙ্গায় দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার নামে ‘প্রতারণা’,২৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জেলার বিভিন্ন গ্রাম...

এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ডা. শফিকুর রহমান

অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন, অন্যথায় ৬ দফা আন্দোলন...

বাহুবলে ঘাসের ওষুধ খেয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পূর্ব জয়পুর গ্রামে ঘাসের ওষুধ...